← Travel StoriesSiem Reap, Cambodia · Places & Memory

সীম রীপ ও আঙ্কার ওয়াট

সীম রিপের লাল মাটির পথ, স্থানীয় বাজার আর মেকংয়ের পাড়ে কাটানো সময়। নতুন এক নদীর পাশে বসে ফিরে আসে পুরোনো নদীর স্মৃতি।

সীম রিপ থেকে মেকংয়ের পাড়ে

এক

সীম রিপ শহর থেকে একটু দূরে গেলেই পর্যটনের চকচকে পৃথিবী অদৃশ্য হয়ে যায়। লাল মাটির সরু পথ। রাস্তার পাশে বাড়ি। গরু বাধা আছে। উঠানে মুরগি।বাড়ির সামনে হ্যামক দুলছে। ধান ক্ষেতের পাশে মানুষ বসে আছে। শিশুরা রাস্তায় খেলছে।

এখানে জীবন স্থির। শহরের মতো দ্রুতগামী নয়। আমি আর সিরি ট্রাইসাইকেল করে একটা বাজারের সামনে এসে থামলাম। খোলামেলা বাজার। প্রথমে রুটির দোকান। পাশে তাজা সবজি ও ফল বিক্রি হচ্ছে। পিছনে বাজার আরো গভীর। সারা সারি দোকান। মাছ, মাংস ও মশলা। বিক্রেতারা প্রায় সবাই নারী। আমি বাজারে প্রবেশ করতেই মেয়েরা উতসুক হয়ে তাকালো আমার দিকে। পাশে ঝুলছে মাংস। শুকুরের মাথা। মুরগির পা। ডালায় সাজিয়ে রাখা মাছ। সামুদ্রিক শেওলা। শামুক, ঝিনুক, অক্টোপাস। কাকড়া। ব্যাঙ, পোকামাকড়। তাদের মুখে হাসি। একটা কম বয়সি মেয়ের চোখে তাকাতেই সে লাজুক ভাবে হাসলো। আমি পা বাড়িয়ে আরো ভিতরে চলে গেলাম।

সিরি আমার হোস্টেল বন্ধু। মধ্য বয়সী এক তরুনী। স্বাধীন চেতা। বিয়ে শাদী এখনো করে নি। জন্ম ভারতের বেঙ্গালুরু শহরে হলেও বর্তমানে ব্রিটিশ নাগরিক। থাকে লন্ডন শহরের লুটন নামক একটা স্থানে। সেখানে তার একটা বাড়ি আছে। বছরের বেশিরভাগ সময় ঘুরে বেড়ায়। বাড়ি ভাড়ার টাকাতে তার মোটামুটি চলে যায়। বাকি সময় কিছু কাজ জুটিয়ে নেয়।

আমি হোস্টেলের পুলের পাড়ে বসে একটা বই পড়ছিলাম। বলতে গেলে ছবি দেখছিলাম নেড়েছেড়ে। পুরনো সব ছবি।আঙ্কার ওয়াট নিয়ে। দেয়ালের কারুকাজ, গুম্বুজ, শিকড়ে ঢেকে যাওয়া গৌতম বুদ্ধ। সিরি এসে পুরনো বন্ধুর মতো বললো, এই তুমি কখন এলে?

আমি বই থেকে চোখ তুলে দেখলাম, আমার সামনে এক ভারতীয় তরুনী দাড়িয়ে। কোকড়া চুল। পরনে সবুজ শর্ট প্যান্ট ও সাদা শার্ট। উপরের বোতাম গুলো সব খোলা। তার ভারি স্তন বেড়িয়ে আসতে চাইছে। গায়ের রং তামাটে। ভারি মোটা ঠোট। গাঢ় বড় বড় চোখ। আমি হাসি দিয়ে হাত বাড়িয়ে বললাল, গতকাল এসেছি। তুমি কি ভারতীয়?

সে আমার হাতটা চেপে ধরে বললো, হ্যাঁ বলতে পার। কিন্তু আমি এখন লন্ডনে থাকি।

সিরি তাড়াহুড়ো করে বললো, আমি এখন খেতে যাচ্ছি। রাতে এসে কথা বললো। কাল তুমি কোথায় যাবে?

আমি বললাম, তুমি গেলে আমাকে নিয়ে যেও। সে পিছিনে মাথা ঘুরিয়ে আমার দিকে তাকাল। তারপর একটা হাসি দিয়ে চলে গেল। আমি আবার বইয়ের ছবির দিকে মন দিলাম। আঙ্কার ওয়াতের উপরে সূর্য অস্ত যাচ্ছে। সূচালো পাশাপাশি তিনটা পিরামিড। মাঝাখানেরটা উচ্চতা বেশি। তার পেছনে সূর্য অস্ত যাচ্ছে। কমলা রঙ্গের আলো পিরামিডের শীর্ষ বিন্দু ছুয়ে যাচ্ছে। চারপাশে আলোর ফোয়ারা। সামনে প্রাচীন পাথুরে রাস্তা দিয়ে হেটে যাচ্ছে দুইজন বুদ্ধ সন্ন্যাসী। পরনে তাদের গেরুয়া রঙ্গের চিবর।

দুই

সরু লাল মাটির পথ দিয়ে এখন আমরা যাচ্ছি। বাহন ট্রাইসাইকেল। স্থানীয়রা বলে টুকটুক। আমি আর সিরি পাশাপাশি পিছিনে বসে আছি। ঝাকি লাগছে হালকা। বেশ বাতাস। তাতে চুল উড়ছে তার। কিছুক্ষণ আগে কিনে আনা রুট খাচ্ছি আমরা। খেতে বেশ মিষ্টি। সিরির চুল এসে লাগছে আমার গলায়, গালে।

টুকটুক এসে থামলো ছোট একটা পাহাড়ে সামনে। উপরে একটা টেম্পেল। নিচ থেকে টেম্পেল পর্যন্ত হেটে উঠার সিড়ি। মোটা মোটা রেলিং। শেওলা ধরা। দুইপাশে যেন ড্রাগন পেছিয়ে শুয়ে আছে। আর সামনে সদর দরজার কাছে মুখে আগুন নিয়ে ফনা তোলা। দরজার সা্মনে ফুল গাছ। খেমার ভাষায় কিছু একটা লিখা। আমাদের উঠার সময় এক বৃদ্ধ দম্পতি সিড়ি বেড়ে নিচে নেমে যেতে লাগল।

ওপর থেকে অনেক দূর পর্যন্ত দেখা যায়। ফাকা ফাকা বাড়ি। রঙ্গিন ছাদ। ধান ক্ষেত। পদ্মফুলের বাগান। লাল মাটির রাস্তা। দূরে একটা জলাশয়। তাতে নৌকায় মাছ ধরছে জেলেরা।

শেওলা ধরা পুরনো মন্দির। কারুকাজ। উর্ধ্বমুখি সুচালো মাথা। ছোট ছোট কক্ষ। চারকোনা দরজা। সাজানো।জানালা। ড্রাগনের উপস্থিতি। মন্দিরের পাশে দেয়ালে ঝুলছে নীল আর সাদা রঙ্গের অর্কিড ফুল।

সিড়ি বেয়ে নেমে আমরা আবার একটা ছোট গ্রামে চলে এলাম। ছোট ছোট ঘর। ঘরের সামনে বসার ব্যবস্থা। মাচায় বসে আছে নারীরা। রাস্তায় খেলছে ছোট শিশুরা। কুকুর ঘুমিয়ে আছে। এলোমেলো করে হাটছে কয়েকটি মুরগি। ছোট দোকানে একটা বাচ্চা বসে আছে। তার সামনে একটা কাটা তরমুজ। সে চামচ দিয়ে কেটে কেটে তরমুজ মুখে দিচ্ছে। তারপাশে দোলনায় একটা বাচ্চা ঘুমিয়ে আছে।

আমারা রাস্তার বাঁক ঘুরে একটা মাচার কাছে এসে বসলাম। পাশে কয়েকজন নারী হাসাহাসি করছে। পরনে পিননের মত পোশাক। মলিন। ধুলোবালিতে মাখা। মাথায় টুপি। বট গাছের মত একটা বড় গাছ ডাল পালা ছড়িয়ে দিয়ে এই দুপুরে ছায়ার ব্যবস্থা করেছে। গাছের নিচে রান্না করছে এক তরুনী। বড় হাড়িতে কিছু একটা ফুটছে। সে মাঝে মাঝে ঢাকনা তুলে তা নাড়িয়ে দিচ্ছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম কি এগুলা?

মেয়েটি খুব মিষ্টি করে হেসে, বললো শামুক। তার পাশে তিনটি বাচ্ছা। ঘুরঘুর করছে।

সামনে সবুজ ধানক্ষেত। বাতাসে দোলছে ধানের সবুজ পাতা। সিরি সামনে দিকে তাকিয়ে আমাকে জিজ্ঞেস করলো, এগুলা কি?

আমি বললাম, ধাম ক্ষেত।

ধানক্ষেতের আইলে কাদায় সিরির জুতা আটকে গেল। আমি হাত বাড়িয়ে তাকে টেনে তুললাম। সিরি আমাকে ধন্যবাদ দিয়ে বললো, বাংলাদেশে এমন ধান ক্ষেত আছে?

আমি হেসে বললাম, আমাদের গ্রামগুলোতে ধানক্ষেত না থাকলে গ্রামকে গ্রাম বলা হয় না।

সিরি জুতার কাদা সরাতে সরাতে বললো, শুনেছি আমার পূর্বপুরুষেরা কৃষক ছিল। ধান চাষ করত। হালকা হেসে বললো, আমি কোনদিন ধান খেত দেখিনি। আমি সিরির দিকে তাকিয়ে দেখলাম, তার মুখে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমেছে। ধান ক্ষেতে বাতাস উঠেছে। অন্যপাশে একটা পদ্মফুলের বাগান। একটা সাদা পদ্মফুলে উড়ছে বড় কালো মৌমাছি।

তিন

কিলিং ফিল্ড থেকে বের হওয়ার সময় আমরা দুইজনে চুপ।একটু আগেও চারপাশে ছিল নানান দেশের পর্যটক, গাইড, ক্যামেরায় ছবি তোলার শব্দ। এখন সেই শব্দগুলোও অদ্ভুত লাগছিল।আমাদের পায়ের নিচে কত মানুষের হাড় মিশে আছে। আমরা কেউ তা দেখতে পাচ্ছি না।

মানুষকে মানুষ কেন খুন করে? স্বার্থের কারনে। লোভের কারণে কিংবা ধন্ধের কারনে। এদেরকে হত্যা করা হয়েছিল কেবল মাত্র তারা চশমা পড়ে বলে। তারা শিক্ষিত বলে। একে একে শিক্ষক, ছাত্র, সাংবাদিক, লেখক সবাইকে হত্যা করলো তারা। সংখ্যা গিয়ে দাড়াল প্রায় বিশ লাখে। তখন কম্বোডিয়া মোট জনসংখ্যা এককোটির কাছাকাছি। গড়ে চারজনের একজন মানুষ মরে গেল। প্রতি পরিবার থেকে কাউকে না কাউকে হত্যা করা হয়েছে। জীবতদেরকে জোর করে গ্রামে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। শহর গুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। স্কুল, কলেজ, সংবাদপত্র, আদালতের উপর নিষেধাজ্ঞা। সবার জন্য বাধ্যতামূলক কৃষি কাজ।

খেমার রুজ তার শাশনামলে মাত্র চার বছরে তাদেরকে হত্যা করেছেন। তার কল্পিত ইউটোপিয়ান সম্রাজ্য নিমার্ণের জন্য। শিক্ষিত সাধারণ মানুষ, ছাত্র, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার ও নানান পেশাজীবীরা এই হত্যার শিকার হয়েছে। খেমার রুজ মনে করতেন একটি আদর্শ সমাজের জন্য কেবল মাত্র দরকার কৃষি কাজ। আর খাদ্য উতপাদন। বাকী শিক্ষিত পেশাজীবীরা সমাজের জন্য বোঝা। তাদের বাচিয়ে রেখে লাভ নেই।

মানুষ হত্য করতে তিনি ব্যয় করতে পছন্দ করতেন না। ভারি কুঠার দিয়ে মাথা বরাবর আঘাত করে মেরে ফেলতেন তাদেরকে। বুলেট ব্যবহার করলে খরচ বেড়ে যাবে। শিশুদের কে হত্যা করতেন। গাছের সাথে আছাড় মেরে তারপর মাটি চাপা দিয়ে রাখতেন।

কিলিং ফিল্ডের ভেতরে একটা গাছের সামনে অনেকক্ষণ ধরে দাড়িয়ে আছি আমি। পাতাগুলো বাতাসে নড়ছে। পাশে একটা ছোট ফলক। আর কিছু হাড়ের টুকরো। মানুষ চলে যায়, ইতিহাস বদলে যায়, কিন্তু গাছ থেকে যায়।

বাইরে এসে দেখলাম একজন মানুষ রাস্তার পাশে বসে ভিক্ষা করছেন। তার একটা হাত নেই। মুখে কোনো বিশেষ অভিব্যক্তি নেই। যেন এই শরীর নিয়েই সে বহু বছর ধরে বসে আছে।

আমি তার দিকে তাকিয়ে রইলাম। সিরি কিছু বলল না। আমরাও কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলাম।

সীম রিপের বাইরে তখনও দুপুরের রোদ। লাল মাটির রাস্তা। দূরে ধানক্ষেত। একটা মুরগি ডাকছে। কয়েকটি বাচ্চা সাইকেল চালাছে। এভাবে জীবন চলতে থাকে। ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার এটাই। একদিন হত্যার জায়গাতেও আবার শিশুরা খেলতে শুরু করে।

শহরের পাশে একটা লেক। সচ্ছ্ব পানি। দুইপাশে ফুল গাছ। লেকের উপর কাঠের পুল। এপাড় থেকে ওপাড়ে সহজে পাড় হওয়া যায়। দুই পাশে খাবারের দোকান। পিছনে প্রসস্থ রাস্তা। হোটেল, স্পা, ব্যাংক, দামি গহনা ও কাপড়ের দোকান। মাঝে মাঝে চোখে পড়ে টেম্পেল। পাব স্ট্রিট খুব সুন্দর করে সজানো। হাসি খুশি। আনন্দিত সবাই। লাইভ মিউজিক শো। কোমর দুলিয়ে নাচছে মেয়েরা। হাতে গ্লাস। বিয়ারের বোতল।

আমি আর সিরি খেতে বসলাম লেকের পাড়ে। নিচু টুল পেতে দেওয়া হয়েছে আমাদেরকে। খাবারের টেবিলটাও আরামদায়ক। কিছুক্ষণ আগে সন্ধ্যা হলো। চারপাশে আলোকিত। জ্বলমল করছে। খাবারের ঘ্রাণ বাতাস ভেসে আসছে। কানে আসছে নানান দেশের অস্পূট ভাষার শব্দ। আমারা খাচ্ছি। মিষ্টি আলু ও মুরগির দরকারি। সাথে ভাত। দুই ভারতীয় পাতে ভাত পেতে মহা খুশি। চামচ দিয়ে ভাত তুলে নিচ্ছি মুখে আমরা। রাস্তায় মানুষ হাটছে। আজকের আনন্দ মিছিল শেষ রাত অবদি চলবে।

চার

রাতে গাড়ির জানালার পাশে বসে ছিলাম। কাচের সাথে নিজের মুখ বাহিরের অন্ধকারে মিশে যাচ্ছিলো। মাঝে মাঝে দূরের কোন বাড়ি থেকে একফোটা আলো এসে চোখে লাগছে। আমি ভাবলাম এই পৃথিবীতে কত ঘর আছে। সেসব ঘরে আমি কোনদিন ঢুকবো না। তবুও সেইসব ঘর পৃথিবীকে বাসযোগ্য করে তুলেছে। সব ঘরের দরজা আমার জন্য খুলে যেতে হবে না। শুধু জানালায় আলোটুকু থাকলেই যথেষ্ট।

সিরি চলে গেল বাটেং বং। আমি সীম রীপ থেকে নম পেনে এসে নামলাম। শহরে ঢুকতেই চোখে পড়ে পরিস্কার সজানো রাস্তা। যান বাহনের চাপ কম। মিনিভ্যান থেকে নামতেই শুরু হলো বৃষ্টি। প্রায় ভিজে ভিজে হোস্টেলে আসলাম। মেকং নদীর পাশেই আজ থাকার ব্যবস্থা। ব্যাগ নামিয়ে জামা কাপড় বদলে নিলাম। জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখলাম বাহিরে ভারি বৃষ্টি। রাস্তায় হলুদ টেক্সি চলে যাচ্ছে হেড লাইট জ্বালিয়ে।

ঘুম থেকে জেগে দেখি শেষ বিকাল। বৃষ্টি থেমে গেছে। একটু দেরি না করে আমি বাহিরে চলে আসলাম। বৃষ্টি ভেজা পিচঢালা পথ। স্নিগ্ধ, ফুরফুরে বাতাস। বাতাসে ভেজা ভেজা গন্ধ। আমি নদীর পাড় ধরে হাটতে শুরু করলাম। পাড়ে পাম জাতীয় গাছ। নদীর নাম মেকং। এখন বর্ষাকাল। ঘোলা পানি বয়ে যাচ্ছে আমার হাটার বিপরীতে। নদীতে ভাসছে কয়েকটা মাঝারি সাইজের প্রমোদ তরি। গানের সুর ভেসে আসছে সেখান থেকে। সামনে নদীটার প্রসস্থতা বেড়েছে। হেটে হেটে আমি রাজ বাড়ির সামনে চলে এলাম। কমলা রঙ্গের কয়েকটি বাড়ি। সুরম্য। সামনে বেশ ফাকা যায়গা। হাজার জাহার কবুতর উড়ছে। নামছে। কবুতরকে খাবার ছিটিয়ে দিচ্ছে এখানে যারা বেড়াতে আসেন। ছোট ছোট বাচ্চার খেলছে। দৌড়াচ্ছে। কয়েকটি বাচ্চাদের দল কে দেখলাম ইউনিফর্ম পড়া। তারা পিকনিক করছে। এক ফরাসি নারী আর আমি হেটে হেটে চলে এলাম শহরের মাঝখানে।

মেকং নদীর পাড়ে বাসে আমি ঘোলা ঢেউ দেখি। ওপরে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন। মেঘ নত ভারি আকাশা। বাতাস আছে যদিও। আমার পিছনে গাছের পাতা নড়ছে। এখন নদীটাকে আমার এত পরিচিত লাগছে। সামনের বাকটা খুব চেনা আমার। মনে পড়ছে আমি সাভারে বংশি নদীর পাড়ে বসে আছি। যেখানে ধলেশ্বরীর সাথে সে মিলেছে। ভাবালাম মানুষ হয়ত নতুন নদী দেখে না, নতুন নদীর পাশে বসে পুরনো নদীর কথা ভাবে।

← Back to Travel Stories

Related stories

A traveler practicing yoga on the rocks beside the sea in Pondicherry
Pondicherry · People & Place

ঊর্ধভী, পন্ডিচেরি উপকূল

পন্ডিচেরির এক ভোরে ঊর্ধভীর সঙ্গে সমুদ্রের পথে হাঁটা। পুরোনো ফরাসি শহর, উপকূলের বাতাস আর কিছু পরিচিত হয়ে ওঠার মুহূর্ত।

Published 6 November 2026 · 4 min read
Read story ↗
Pai · Khong River · Culture & Community

সাম্বালা, ইউটোপিউয়ান জগৎ।

খং নদীর পাড়ে তাঁবু, গান আর নানা দেশ থেকে আসা মানুষ। সাম্বালার দিনগুলোতে প্রকৃতি ও একসঙ্গে থাকার অভিজ্ঞতা নিয়ে এই ভ্রমণলেখা।

Published 6 November 2026 · 6 min read
Read story ↗
Terraced green rice fields beneath the mountains of Sa Pa
Sa Pa · Mountains & Trails

সাপা, উওর ভিয়েতনাম

মেঘে ঢাকা সাপায় পৌঁছানো থেকে ক্যাট ক্যাট গ্রাম ও পাহাড়ের আড়ালে ট্রেকিং। সবুজ ধানখেত, বৃষ্টি আর চাঁদের আলোয় অন্য রকম এক শহর।

Published 6 November 2026 · 6 min read
Read story ↗